পাখি কিভাবে মানুষের মতো কথা বলতে পারে?
পাখির মুখে মানুষের ভাষা শুনলে অবাক না হয়ে উপায় নেই। অনেকের বাসাতেই এমন পোষা পাখি দেখা যায়, যারা স্পষ্টভাবে কিছু শব্দ বা ছোট বাক্য বলতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কীভাবে তারা মানুষের মতো করে কথা বলতে শেখে?
১৯৯৫ সালে ‘পাক’ নামের একটি বাজরিগার পাখি এই ক্ষেত্রে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করে। ছোট এই পাখিটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নেয়। মাত্র পাঁচ বছরের জীবনে সে ১ হাজার ৭২৮টি শব্দ শিখে ফেলেছিল, যা সত্যিই বিস্ময়কর।
শুধু আলাদা শব্দ নয়, পাক নিজের মতো করে বাক্যও তৈরি করতে পারত। যেমন ‘That’s what it’s all about’—এ ধরনের বাক্য বলার ক্ষমতাও ছিল তার। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—কেন কিছু পাখি মানুষের ভাষা অনুকরণ করতে পারে, আর অন্যরা পারে না?
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় সব পাখিরই নিজস্ব যোগাযোগ পদ্ধতি রয়েছে। তারা বিভিন্ন ধরনের ডাক ও শব্দের মাধ্যমে সঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং বিপদের সংকেত দেয়। তবে মানুষের ভাষা নকল করার ক্ষমতা সব পাখির নেই।
নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী টিমোথি রাইটের গবেষণা বলছে, আমরা যখন পাখির ‘কথা বলা’ বলি, তখন আসলে বুঝি মানুষের ভাষার অনুকরণ বা মিমিক্রি। কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির পাখি এই মিমিক্রিতে বিশেষ দক্ষ।
তোতাপাখি, ময়না, স্টার্লিং এবং কাকজাতীয় পাখিরা মানুষের শব্দ নকল করার ক্ষেত্রে পারদর্শী। তাদের মস্তিষ্ক ও স্বরযন্ত্রের বিশেষ গঠনই এই ক্ষমতাকে সহজ করে তোলে।
প্রতি /এডি /শাআ









